জিন-পরীর দেশ কোয়েকাফ - ইসলামে সত্য নাকি আরব্য উপন্যাস?
এই পৃথিবীতে মহান আল্লাহর এমন এক সৃষ্টিকুল আছে, আমাদের সাধারণ চোখ যাদের দেখতে পায়না। কিন্তু কুরআন তাদের অস্তিত্ব স্বীকার করে। তারা মানুষ নয়, তারা ফেরেশতাও নয়, তারা হলো- জিন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো- আমরা জিন সম্পর্কে যা জানি, তা কি সত্যিই পুরপুরি ইসলাম সম্মত জানা? নাকি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোককথা, রূপকথা আর ভয় দেখিয়ে আসল সত্যকে ঢেকে দিয়েছে?
আজ আমরা অনুসন্ধান করব- ইসলামে জিন বনাম লোককথা সম্পর্কে।
ইসলামের দৃষ্টিতে জিন
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন- “আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদতের জন্য।” ( সূরা যারিয়াত) এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, জিন কোনো রূপকথার চরিত্র নয়। তারা আল্লাহর সৃষ্টি, দায়িত্বশীল এবং বিচারযোগ্য।
ইসলাম ধর্ম মতে জিন-
• আগুনের শিখা থেকে সৃষ্টি
• বুদ্ধি ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন
• মানুষের মতোই হেদায়েত বা গোমরাহ হতে পারে
জিন জাতির মধ্যেও আছে- মুসলিম, কাফির, সৎ ও অসৎ জিন।
কিন্তু ঐতিহাসিক আরব্য লোককথা বলে ভিন্ন কথা। লোককথার মতে-
• জিন মানেই ভয়ংকর
• পরীরা অপূর্ব সুন্দর
• আছে জিন-পরীর আলাদা রাজ্য
• কোয়েকাফ হলো জিন আর পরীর দেশ।
• জিন উড়ে বেড়ায়,
• মানুষকে বিয়ে করে,
• রাজা-বাদশাহরা তাদের রাজ্য শাসন করে ইত্যাদি।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়,এই সবের কোনোটি কুরআন বা সহিহ হাদিসে উল্লেখিত নয়।
ইসলাম মতে জিন বাস করে-
• পৃথিবীতেই
• মানুষের অদৃশ্য জগতে
• মরুভূমি, ধ্বংসাবশেষ, পরিত্যক্ত স্থানে
কোনো নির্দিষ্ট “জিনের দেশ” বলতে ইসলামে কিছু উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে লোককথায় জিন বাস করে-
• জিনদের আলাদা গ্রহে
• পাহাড়ঘেরা রহস্যময় নগর
• কোয়েকাফ শহর
তবে এসব মানুষের কল্পনা মাত্র, কোন ইসলামিক দলিল নয়।
খাদ্যাভ্যাস ইসলামে (হাদিস অনুযায়ী) রাসূল স্পষ্টভাবে বলেছেন-
• জিনদের খাদ্য :
o হাড় (যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে)
o গোবর (পশুদের জন্য)
অন্যদিকে লোক কথায় জিনদের খাদ্য:
• আগুন
• শিশির
• মানুষের রক্ত
এসবের কোনো ইসলামী ভিত্তি নেই।
ইসলাম মতে পরিবার ও সম্পর্ক-
জিনদের বিয়ে হয়, সন্তান হয়, বংশধারা আছে, শয়তানের সন্তান আছে যা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট
লোককথায়- মানুষ- জিন প্রেম, পরীর সাথে বিয়ে, সন্তান
ইসলামে এসব গল্প ছাড়া কিছুই নয়।
মানুষের সাথে সম্পর্ক- আল কুরআন সতর্ক করে,-
“কিছু মানুষ জিনের সাহায্য চাইত, ফলে তারা আরও পথভ্রষ্ট হতো” -সূরা আল-জিন। ইসলামে- জিন ডাকা হারাম, জিনের সাহায্য চাওয়া নিষিদ্ধ, তাবিজ, বশীকরণ এগুলো শিরকের পথ।
কিন্তু লোককথায়- এসবকে রহস্যময় শক্তি হিসেবে মানুষের কাছে অতি রোমাঞ্চকর করে তোলে।
ইসলাম আমাদের ভয় দেখাতে আসেনি। ইসলাম এসেছে সত্য জানাতে। জিন আছে, কিন্তু তারা এক আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর তাদের সৃষ্টি করেছেন- তাঁর ইবাদতের জন্য।
আর লোককথা?
সেগুলো গল্প হিসেবেই থাকুক। বিশ্বাস হোক কুরআনে আর ভরসা হোক শুধুমাত্র আল্লাহতে।
কারণ,- ইমানই মুমিনের সবচেয়ে বড় রক্ষা-কবচ।
|
বিষয় |
ইসলাম |
লোককথা |
|
দলিল |
কুরআন-হাদিস |
গল্প-কল্পনা |
|
জিনের
দেশ |
নেই |
কোয়েকাফ ইত্যাদি |
|
পরী |
নেই |
আছে |
|
ভয় |
সংযত সচেতনতা |
অতিরঞ্জিত আতঙ্ক |
|
পথ |
তাওহীদ |
কুসংস্কার |
