ইসরায়েলের গোপন কারাগার ‘রাকেফেত’- যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না
বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা যেসব দেশের, ইসরায়েল “Israel” তাদের অন্যতম। কিন্তু এই দেশের নিরাপত্তার আড়ালে এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেগুলোর নাম সরকারিভাবে প্রায় কখনোই স্বীকার করা হয় না।
এমনই এক স্থান নিয়ে আজকের আলোচনা। যেই রহস্যময় স্থানটি এক গোপন কারাগার। যার নাম- রাকেফেত “Rakafet” ।
এই নামটি সাধারণ মানুষের কাছে প্রায় অজানা। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠন “Human Rights” ও সাবেক গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী,‘রাকেফেত’ এমন এক কারাগার, যেখানে বন্দিদের জন্য সূর্যের আলো দেখা প্রায় অসম্ভব। ধারণা করা হয়, এই কারাগারটি ইসরায়েলের একটি সামরিক অঞ্চলের গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভে, বহু স্তর নিচে। এটি কোনো সাধারণ জেল নয়।
এখানে রাখা হয় সেই বন্দিদের,যাদের রাষ্ট্র “চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি” হিসেবে বিবেচনা করে।‘রাকেফেত- এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো- সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গতা। বন্দিদের রাখা হয় একাকী কক্ষে, যেখানে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, কখনো কখনো বছরের পর বছর, কোনো মানুষের মুখ দেখা যায় না।
কক্ষগুলো ছোট, কংক্রিটে ঘেরা, কোনো জানালা নেই। দিন আর রাতের পার্থক্য বোঝার কোনো উপায় নেই। এই ধরনের বন্দিত্বকে বলা হয়“সেন্সরি ডিপ্রাইভেশন”- যা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে।
বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এখানে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় মানসিক চাপ, ঘুম বঞ্চনা, এবং চরম নিঃসঙ্গতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে।
‘রাকেফেত’ নিয়ে সবচেয়ে বড় রহস্য হলো- এখানে ঠিক কতজন বন্দি আছে, আর তারা কারা-তা কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের পাশাপাশি বিদেশি গুপ্তচর, ডাবল এজেন্ট বা অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার আসামিদের রাখা হয়।
এই কারাগার সম্পর্কে তথ্য বের হওয়াটাই বিপজ্জনক। অনেক সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই নাম প্রকাশ করাটাও একসময় নিষিদ্ধ ছিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে- এমন গোপন কারাগার আইনের শাসন ও মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। অন্যদিকে রাষ্ট্রের দাবি- জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়- নিরাপত্তার নামে কতটা অন্ধকার গ্রহণযোগ্য? ‘রাকেফেত’ শুধু একটি কারাগার নয়- এটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সবচেয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতার প্রতীক। সূর্যের আলো যেখানে পৌঁছায় না, মানবতা কি সেখানে কখনো পৌঁছায়?

