জর্জিয়া মেলোনি এক সিঙ্গেল মাদারের মেয়ে থেকে ইতালির ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী
Giorgia Meloni is one of the most powerful and controversial political leaders in modern Europe. From growing up in a single-mother household in Rome to becoming Italy’s first female Prime Minister, her journey is a story of resilience, ideology, and political determination.
In this documentary- we explore Giorgia Meloni’s early life, political rise, ideology, controversies, and current role as Italy’s Prime Minister. We uncover how she entered politics at a young age, founded the Brothers of Italy (Fratelli d’Italia) party, and led it from the political margins to the center of power.
ইতালির রাজনীতিতে এক সাহসী, দৃঢ় এবং বিতর্কিত নাম- জর্জিয়া মেলোনি। এক সময়ের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, একাকীত্ব আর কঠিন বাস্তবতার গল্প।
জর্জিয়া মেলোনির জন্ম ১৯৭৭ সালের ১৫ জানুয়ারি, ইতালির রাজধানী রোমে। তার শৈশব মোটেও আরামদায়ক ছিল না। ছোটবেলাতেই তাঁর বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। ফলে মা ও বোনকে নিয়ে মেলোনিকে বড় হতে হয় এক সিঙ্গেল মাদারের সংসারে।
অভাব, অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক চাপে ভেঙে পড়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই কঠিন সময়ই মেলোনির ভেতর তৈরি করে অদম্য মানসিক শক্তি।
স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী ও প্রতিবাদী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি যুক্ত হন একটি ডানপন্থী যুব সংগঠন, যা ছিল ইতালির পোস্ট-ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক ধারার অংশ।
অনেকে তখন তাঁকে গুরুত্ব না দিলেও, মেলোনির কণ্ঠ ছিল স্পষ্ট- “আমি বিশ্বাস করি পরিবার, জাতীয় পরিচয় এবং সার্বভৌমত্বে।”
পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি কাজ করেছেন বেবিসিটার, ওয়েট্রেস হিসেবেও। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও কাছ থেকে বুঝতে শেখায়।
২০০৬ সালে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে, জর্জিয়া মেলোনি ইতালির পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন, যা তাঁকে তখনকার সবচেয়ে তরুণ সংসদ সদস্যদের একজন করে তোলে।
২০০৮ সালে তিনি ইতিহাস গড়েন। মাত্র ৩১ বছর বয়সে, তিনি হন ইতালির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রী- সে সময় তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে কম বয়সী মন্ত্রী।
কিন্তু মেলোনির প্রকৃত উত্থান শুরু হয় ২০১২ সালে,যখন তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের দল- “Fratelli d’Italia” (ব্রাদার্স অব ইতালি)। এই দলটির মূল আদর্শ ছিল- জাতীয়তাবাদ, ঐতিহ্য, পরিবার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অতিরিক্ত প্রভাবের বিরোধিতা।
শুরুর দিকে দলটি ছিল খুবই ছোট। অনেকে বলেছিল “এরা কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না।” কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলোনির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী, আপসহীন এবং আত্মবিশ্বাসী। অভিবাসন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে ইতালির ভূমিকা- এই বিষয়গুলোতে তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়।
২০২২ সাল। ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। সাধারণ নির্বাচনে Fratelli d’Italia সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর ফলেই জর্জিয়া মেলোনি শপথ নেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
এই জয় শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ছিল একটি সমাজের গভীরে থাকা অসন্তোষ, পরিচয় সংকট এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেলোনি কাজ করছেন-অর্থনৈতিক সংকট, অভিবাসন সমস্যা, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক সামলাতে।
তাঁকে কেউ বলেন রক্ষণশীল আইকন, আবার কেউ বলেন বিতর্কিত ডানপন্থী নেতা। কিন্তু এক বিষয়ে সবাই একমত-জর্জিয়া মেলোনি আধুনিক ইতালির রাজনীতিতে এক শক্তিশালী ও অনিবার্য নাম।
এক সিঙ্গেল মাদারের কন্যা থেকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী- এই যাত্রা প্রমাণ করে, রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, এটি দৃঢ় বিশ্বাস ও দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল।

