" Imam Mahdi & Jesus (Isa AS) | ইমাম মাহদী ও ঈসা (আ.) এর আগমন, কুরআন ও হাদিসের আলোকে শেষ যুগের বার্তা - BD Today Viral

Imam Mahdi & Jesus (Isa AS) | ইমাম মাহদী ও ঈসা (আ.) এর আগমন, কুরআন ও হাদিসের আলোকে শেষ যুগের বার্তা

imam-mahdi-isa-as-end-times

ইমাম মাহদী-আ. এর আগমন কেবল মুসলমানদের জন্য একটি মহান ঘটনা নয় বরঞ্চ হযরত ঈসা (আ.) ও এই মহান পর্বে উপস্থিত থাকবেন, মুসলিম হিসেবে এ কথা কারো অজানা নয়।


ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হল ইমাম মাহদী (আ.) “Imam Mahdi” এর আবির্ভাবের পর আকাশ থেকে হযরত ঈসা (আ.) “Isa AS” এর অবতরণ এবং ইমাম মাহদী আ. এর  ইমামতিতে নামাজে এই মহান নবী অংশগ্রহণ করবেন।


হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রসঙ্গে সর্বদা উত্থাপিত একটি প্রশ্ন হল: ঈসা (আ.)-কে কি ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল? এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ১৫৭-১৫৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:-


অর্থাৎ: (আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল।

অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না।

আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।)


সহীহ বর্ণনায় বর্ণিত আছে যে, হযরত মাহদীর আবির্ভাবের পর হযরত ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন এবং মাহদীর ইসলাম রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এ প্রসঙ্গে ইসলামের মহনবী মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন:-


"আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদাই এমন একটি দল থাকবে যারা সত্যের পথে লড়াই করবে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত পবিত্র থাকবে। যখন মরিয়মের পুত্র ঈসা (আঃ) (আকাশ থেকে) আসবেন, তারপর তাদের নেতা (হযরত মাহদী থেকে হযরত ঈসা) বলবেন:-

এসো এবং আমাদের নামাজ পড়াও অর্থাৎ জামাতের ইমাম হও। তারপর হযরত ঈসা (আঃ) বলবেন: না, তোমাদের কেউ কেউ অন্যদের উপর নেতা (এবং শাসক) কারণ আল্লাহ এই উম্মতকে (আখিরাতের উম্মতকে) অধিক সম্মানিত করেছেন।"


হযরত ঈসার উর্ধ্বলোকে গমন এবং তাঁর দীর্ঘ জীবনের দর্শন হল ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ভূমিকা পালন করতে পারা যাতে বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানরা ইমান আনে।


এটা স্বাভাবিক যে যীশু খ্রীষ্টের তথা হযরত ঈসার (আ) আবির্ভাবের পর খ্রিস্টানরা গভীর আনন্দ ও তৃপ্তি প্রদর্শন করবে এবং মুসলমানদের মতই ঈসার (আ) এর অবতরণকে একটি খোদায়ি উপহার বলে মনে করবে।


ঈসা(আ) ও বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করবেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নানা নিদর্শন ও অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ করবেন যাতে খ্রিস্টানরা ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে ধাবিত হয়। 


ঈসা (আ) এর উপস্থিতির প্রথম ফলাফল হবে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুতা হ্রাস পাবে এবং তাদের ও হযরত মাহদী আ. র মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা হবে।


ইমাম মাহদীর বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা সরকারে-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবশ্যই জাতির প্রবীণ এবং সৎ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে হবেন। কোরানের বর্ণনা থেকে যানা যায়, ইমাম মাহদীর সরকার নবী, তাদের উত্তরসূরী, ধার্মিক এবং ধার্মিকদের নিয়ে গঠিত হবে।


একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, হযরত ঈসা (আঃ) ইমাম মাহদীকে বলেন: "নিশ্চয়ই, আমাকে একজন মন্ত্রী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, নেতা ও শাসক হিসেবে নয়।" (মুলাহিম, ইবনে তাউস, পৃ. ৮৩; এবং আল-ফিতন, ইবনে হাম্মাদ, পৃ. ১৬০)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url



অনুসরণকারী