রাইস আলী দেলাওয়ারি ইরানের সেই বীরযোদ্ধা, যাঁর নাম শুনে কাঁপত ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
১৯০০ সালের শুরুতে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য "British Empire" দক্ষিণ ইরান "Iran" দখল করার চেষ্টা করেছিল - কিন্তু তাদের পথে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন এক সাহসী মানুষ: রাইস আলী দেলাওয়ারি "Rais Ali Delvari", যিনি পরিচিত ছিলেন তাঙ্গেস্তানের সিংহ নামে।
তিনি ছিলেন না কোনো রাজা, না কোনো সেনাপতি - তিনি ছিলেন এক নির্ভীক দেশপ্রেমিক, যিনি নিজের দেশের মানুষদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।
এই প্রতিবেদনে আজ আমরা তুলে ধরেছি- ইরানের সেই জাতীয় বীরের অজানা গল্প, যার সাহস ও আত্মত্যাগ ব্রিটিশদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল, আর যার নাম আজও গর্জে ওঠে ইতিহাসের পাতায়।
১৯১৫ সাল... পারস্য উপসাগরের বুকে তখন চলছে যুদ্ধের দামামা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তার উপনিবেশের সীমা বাড়াতে মরিয়া। কিন্তু পারস্যের দক্ষিণে এমন এক যোদ্ধা উঠে এসেছিলেন, যাঁর নাম শুনলেই ব্রিটিশ সেনারা ভয় পেত তিনি হলেন- রাইস আলী দেলাওয়ারি।
দেলাওয়ারি ছিলেন ইরানের বুশেহর অঞ্চলের একজন সাধারণ মানুষ, কিন্তু তাঁর বীরত্ব ছিল অসাধারণ, ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বাহিনী পারস্যে প্রবেশ করে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল ও উপকূল দখল করা।
কিন্তু দেলাওয়ারি তখন ব্রিটিশ আধিপত্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেন। তিনি নিজের গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষদের নিয়েএকটি গেরিলা বাহিনী গঠন করেন। তাঁদের কাছে ছিল না আধুনিক অস্ত্র, না কোনো বড় সেনাবাহিনী - ছিল কেবল দেশপ্রেম আর অদম্য সাহসী মন।
বুশেহর, তাঙ্গেসতান, এবং দালাকি এলাকার পাহাড় ও মরুভূমিতে দেলাওয়ারি ও তাঁর যোদ্ধারা ব্রিটিশ সেনাদের ওপর হঠাৎ হঠাৎ হামলা চালাতেন- রাতের আঁধারে, নীরবতায়, যেন মৃত্যুর ছায়া হঠাৎ নেমে আসে। ব্রিটিশ রিপোর্টে তখন লেখা হয়েছিল - “Rais Ali Delvari is the lion of Tangestan - his attacks are swift and unpredictable.”
এই কথাই প্রমাণ করে, ইংরেজরা তাঁর নাম শুনলেই ভয়ে কাঁপত, কারণ তারা জানত- যখন দেলাওয়ারি আশেপাশে, তখন নিরাপদ থাকা অসম্ভব।
১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বরের এক যুদ্ধে, দেলাওয়ারি শেষ পর্যন্ত শহীদ হন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু ব্রিটিশ দখলদারদের জন্যআরও বড় বিপদ বয়ে আনে- কারণ তাঁর নাম হয়ে ওঠে প্রতিরোধের প্রতীক। ইরানে আজও রাইস আলী দেলাওয়ারিকে বলা হয় “Hero of the South”.
আর বুশেহর অঞ্চলে তাঁর স্মৃতিতে গড়া হয়েছে জাদুঘর ও স্মারক। তাঁর এই বীরত্ত গাঁথা গল্প আজও ইরানিদের মনে সাহস যোগায়, তাদের শেখায়- যে মাটির সন্তান সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে লড়ে, তাকে কোনো সাম্রাজ্য ভয় দেখাতে পারে না।
রাইস আলী দেলাওয়ারি- এক নাম, এক মুসলিম বীরযোদ্ধা, যার সামনে একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যও কেঁপেছিল।


