Patriot ও THAAD কি ব্যর্থ হতে পারে? ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল Qassem Bassir নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ
বিশ্বের বুকে এখন এক অদৃশ্য উত্তপ্ত লড়াই চলছে, ইরান "Iran" এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "USA" মধ্যকার সম্পর্ক, যা যে কোনো মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ হতে পারে। ইতিহাস জানায়, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘ শত্রুতা প্রায় ৭০ বছরের, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি যেন আগের সবকটিকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
কেন সম্পর্ক এত উত্তেজনাপূর্ণ?
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ক স্থায়ী শত্রুতার পথে গিয়েছে। ইরানকে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকা ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে দেখে। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি এক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
ইরানে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। যা অর্থনৈতিক মন্দা ও কঠোর নীতিমালার বিরুদ্ধে। আমেরিকা ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে, আর তেহরান এটিকে ‘ব্যাহত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট "Internet blackout" কঠোর দমন, এবং তথাকথিত আমেরিকা-ইজরায়েল ষড়যন্ত্র, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অতি টানাপোড়নে।
এই অস্থিরতার মাঝেই দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে-যা কিনা দুই রাজনৈতিক মহাশক্তির মুখোমুখি অবস্থান।
সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি-
“ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা শুধুমাত্র একটি খবরের শিরোনাম নয়।বরং ঘটনার গতিধারা দেখাচ্ছে। যেমন-
• আমেরিকা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে চাপ বাড়াচ্ছে।
• ইরান বারংবার সতর্ক করেছে যে বিদেশী হস্তক্ষেপ হলে তারা শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেবে।
তবে কি সত্যিই কি যুদ্ধ বেধে যাবে? কেউ সঠিকভাবে তা জানে না। কিন্তু ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক সংকেত তিনটি বড় কারণ যুদ্ধকে সম্ভবপর করে তুলতে পারে। তা হল- পরমাণু কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব, এবং কড়া প্রত্যাঘাতে সামরিক উত্তেজনা।
ইরানের আধুনিক সমরাস্ত্র ও শক্তিমত্তা-
এবার আসি ইরানের একটা শক্তিশালী মাত্রা অর্থাৎ তার সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে সমরাস্ত্র ও দক্ষতম অস্ত্রগুলোর দিকে। প্রথমত-
১. ব্যালিস্টিক মিসাইলস (Ballistic Missiles)
ইরান নিজস্ব ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি করেছে।
Qassem Bassir নামে একটি মিডিয়াম-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল ইরান ২০২৫ সালে উন্মোচন করেছে।যার পরিসর প্রায় ১,২০০ কিমি, উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম ও প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।
এই ধরনের মিসাইলগুলো আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যে স্থাপিত সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ বা অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে যথেষ্ট ধ্বংসাত্মক শক্তি বহন করতে পারে।
২. ড্রোন ও ন্যাভাল ড্রোন ক্যারিয়ার
ইরান শুধু ব্যালিস্টিক মিসাইলেই সীমাবদ্ধ নেই-নতুন ড্রোন ক্যারিয়ার জাহাজ (IRIS Shahid Bagheri) তৈরিও করেছে, যা সামুদ্রিক প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র নেয়ার ক্ষমতা যুক্ত করে।
এই ধরনের নৌ-ড্রোন যুদ্ধ-এর মাধ্যমে ইরান তার আক্রমণযোগ্যতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
৩. মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র স্টকপাইল
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড জানাচ্ছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সংখ্যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড়। এই মিসাইলগুলো শুধুমাত্র আঞ্চলিক দেশগুলোকেই হুমকি নয়; এতে আমেরিকার আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা "Patriot", "THAAD" ইত্যাদি পর্যন্ত চ্যালেঞ্জে পড়ছে।
যুদ্ধ হলে কি ঘটতে পারে?
• মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি ও বন্দর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র টার্গেট হতে পারে
• সামরিক ঘাঁটি ও তেল সংরক্ষণাগার ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে
• যুদ্ধাদি দীপ্তি বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে
• তেল মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে
• আর সবচেয়ে ভয়াবহ সম্ভাবনা- যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা।
ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ক কেবল দু’টি দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন নয়- এটা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। যুদ্ধের ঝুঁকি অতিরিক্ত সতর্কতার দাবি রাখে, কিন্তু আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে। আমরা এক সুন্দর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম।

