" খামেনেয়ীকে হত্যার চেষ্টা! ১৯৮১ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী রক্তাক্ত অধ্যায় - বিডি টুডে ভাইরাল

খামেনেয়ীকে হত্যার চেষ্টা! ১৯৮১ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী রক্তাক্ত অধ্যায়

Ayatollah-Khamenei-life-story

১৯৮১ সালের গ্রীষ্মকাল... ইরানের রাজধানী তেহরান। সদ্য সংঘটিত ইসলামি বিপ্লবের "Islamic Revolution" উত্তেজনা তখনও থামেনি। দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ষড়যন্ত্র আর রক্তপাতের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছিল নতুন ইরান "Iran" । ঠিক এই সময়, ঘটে এমন এক ঘটনা যা ইতিহাস বদলে দেয়-আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর ওপর প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা।


বছরটা ১৯৮১। ইরান তখন সদ্য বিপ্লবের পরবর্তী সংকটময় সময় পার করছে। খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, দেশজুড়ে সক্রিয় ছিল Mujahedin-e-Khalq বা এমইকে নামে এক চরমপন্থী সংগঠন। তারা ইসলামি সরকারের বিরোধিতা করছিল এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছিল।


এই সময় খামেনেয়ী ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং তেহরানের শুক্রবারের নামাজের খতিব। তাঁর প্রভাব, জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্ব ছিল সরকারের জন্য অমূল্য সম্পদ।


তারিখ- ২৭ জুন ১৯৮১। খামেনেয়ী তেহরানের আবুলফজল মসজিদে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। বক্তৃতা শুরুর আগে কেউ একটি ছোট রেকর্ডার নিয়ে আসে, বলা হয়- এতে সাধারণ মানুষদের প্রশ্ন রেকর্ড করা আছে, যা খামেনেয়ী শুনে উত্তর দেবেন। তিনি সেই যন্ত্রটি হাতে নেন... এবং ঠিক তখনই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ!

আয়াতুল্লাহ-খামেনেয়ী
মসজিদের ভেতর মুহূর্তেই আগুন, ধোঁয়া আর আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা। খামেনেয়ীর শরীরের ডান দিক মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়, তাঁর ডান হাত সম্পূর্ণরূপে অক্ষম হয়ে পড়ে। উপস্থিত অনেকেই আহত হন, কয়েকজন মারা যান। চিকিৎসকরা প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো আর বাঁচবেন না। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে খামেনেয়ী বেঁচে যান।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি বলেন- “আমার শরীর আহত হয়েছে, কিন্তু আমার মনোবল নয়। আমি জানি, আমাদের বিপ্লবের শত্রুরা ভয় পেয়েছে, তাই এই হামলা।” এই কথাগুলো তখন গোটা ইরানকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।


হামলার তদন্তে উঠে আসে, হামলাকারীরা ছিল Mujahedin-e-Khalq সংগঠনের সদস্য, যারা পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিল। এই হামলার পর থেকেই খামেনেয়ীর "Ayatollah Khamenei" জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। দুই বছর পর, তিনি হন ইরানের প্রেসিডেন্ট, এবং ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেইনির "Ayatollah Khomeini" মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতা।


তার ডান হাত আজও নড়াচড়া করতে পারে না, সেই দাগ এখনো বহন করে ১৯৮১ সালের সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি। এই হামলা শুধু এক নেতার ওপর আঘাত ছিল না- এটি ছিল এক আদর্শ, এক বিপ্লবের ওপর আঘাত। কিন্তু সেই আঘাতই তাঁকে পরিণত করেছিল এক দৃঢ়, সহনশীল ও ঐক্যের প্রতীক নেতা-আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url



অনুসরণকারী