ইরানের ভয়ংকর সামরিক শক্তি সাথে আছে- হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোন ও নৌ ইউনিট
বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় সামরিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো ইরান। কেবল বন্ধু বিশ্বে নয় ,শত্রুদের কাছে ও তা ভীতিস্বরূপ। আধুনিক বিশ্ব, যুদ্ধের ছক বদলাচ্ছে, আর ইরানও তার সামরিক শক্তি নতুন রূপ দিচ্ছে।
ইরানের স্থল সেনা, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং তাদের সমরাস্ত্র ও কার্যক্ষমতা - আন্তর্জাতিক বাস্তবে কতটুকু ভয়ংকর হতে পারে?” আজ আমরা তা বিশ্লেষণ করব -
ইরানের সামরিক সংগঠন: Artesh ও IRGC
ইরানের সামরিক শক্তি আসলে দুইটি বড় শাখায় ভাগ বিভক্ত :
Islamic Republic of Iran Army (Artesh)- সাধারণ সেনাবাহিনী
Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) – যা বিশেষ অপারেশন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বহুমুখী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। IRGC নিজস্ব নৌ, বিমান ও রকেট ইউনিট পরিচালনা করে এবং সবচেয়ে সক্রিয় অংশ। ইরানের স্থল বাহিনী সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা প্রায় ৬,১০,০০০+। ট্যাঙ্ক, AFV ও শক্তিশালী আর্টিলারি সহ বিস্তৃত স্থল শক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে এই বাহিনী মূলত আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় দক্ষ।” এদের রয়েছে স্বল্প-ব্যয়ী রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ,যা দ্বারা যুদ্ধায়ন স্থিতি টানতে পারে। প্রচুর পরিমাণে MLRS ও দূরবর্তী রকেট সিস্টেম রয়েছে। যা বড় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসক্ষমতা দেয়।
নৌ বাহিনী- সমুদ্রের ‘অ্যাসিমেট্রিক’ যুদ্ধ কৌশল
ইরানের নৌ শক্তি বড় বড় ওয়্যারশিপ দ্রুতগতির আক্রমণ- স্পিড বোর্ড, ক্ষুদ্র সাবমেরিন ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র সমন্বয়ে গঠিত।
প্রধান নৌ বাহিনী বৃহত্তর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিয়ন্ত্রণ করে
IRGC নৌ ইউনিট দ্রুত নৌকা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উপকূলীয় কার্যক্রম চালায় । বিশেষত হার্মুজ স্টেইটের জন্য উপযোগী সমরাস্ত্র কৌশল।
সাম্প্রতিক নৌ মহড়ায় ইরানের ফ্রিগেট IRIS Sabalan ও Ganaveh (আইআরআইএস সাবালান ও গানেভ ) মিসাইল চালিয়েছে - যা গভীর সমুদ্রে লব্ধ শত্রু বাহিনীকে লক্ষ্য করতে সক্ষম।
বিমান বাহিনী - পুরানো প্ল্যাটফর্ম, কিন্তু নতুন কৌশল
ইরানের বিমান বাহিনী মূলত পুরনো যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা শৃঙ্খলায় নির্ভর করে, তবে তারা
F-14, F-4, MiG-29, Su-24 সহ সিনিয়র-জেনারেশন বিমান ব্যবহার করছে
রাশিয়া থেকে MiG-29S এর চালান পেতে শুরু করেছে ভবিষ্যতে Su-35 এর আগমনেও অপেক্ষা করছে
ড্রোনের শক্তি বড় হয়ে উঠছে- যেমন ‘Shahed-149 / The Gaza’ ধারার বড় যুদ্ধ ড্রোন, যার প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বিস্তৃত পরিসরের সক্ষমতা লক্ষ্যযোগ্য।
সমরাস্ত্র ক্ষমতা- ইরানের প্রকৃত ‘ডিটারেন্স’
ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ এই সমরাস্ত্র ও রকেট সিস্টেম:
Qassem Bassir MRBM- প্রায় ১,২০০ কিমি পরিসরের ব্যালিস্টিক মিসাইল, শক্তিশালী ইন্টারসিপশন প্রতিরোধ ক্ষমতা সহ।
Hypersonic Fattah-2 - যেখানে ইরান দাবি করে যে এটি Mac-15 পর্যন্ত গতিতে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম; তবে বাস্তব কার্যক্ষমতা নিয়েও বর্ণনা চলছে।
Surface-to-Air / Air Defence missiles - যেমন Sayyad-4, প্রতিরক্ষা শেল্টার হিসেবে কার্যকর; উচ্চ-গতি ও মাঝারি-দূরত্বে ক্ষেপণাস্ত্র হোমিং করে।
এগুলো ইরানের কৌশলগত প্রতিরোধ- অর্থাৎ সরাসরি আক্রমণের বদলে প্রতিশোধ বলে শত্রুকে বাধ্য করা। এভাবেই ইরান তাদের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পজিশনও শক্ত করে।
ইরানের সামরিক ক্ষেত্রে স্থল বাহিনী পুরাতন কিন্তু পরিমাণে বড়।
নৌ বাহিনী উপকূলীয় ও অসামান্য কৌশলগত সমরাস্ত্রে দক্ষ।
বিমান বাহিনী কিছু আধুনিকায়ন লাভ করলেও পুরোনো প্ল্যাটফর্মে ভারসাম্য রাখা।
সমরাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি ইরানের সবচেয়ে কার্যকর যুদ্ধ ক্ষমতা, যা মধ্যপ্রাচ্যের খেলায় বড় ভূমিকা রাখে।
ইরানের সামরিক শক্তি কেবল পিস্তল-তলোয়ার নয় - এটি আজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অসামান্য কৌশলে সাজানো এক আধুনিক যুদ্ধমঞ্চ। স্থল অবস্থান থেকে শুরু করে উপকূলীয় নৌ অপারেশন, আকাশ শক্তি ও প্রতিরক্ষা - ইরান নিজেকে এক বিশেষ সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্থাপন করেছে।
যুদ্ধ হলে কে জিতবে? তা নির্ভর করবে কৌশল, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের গতিতে। কারণ অস্ত্রের সংখ্যা যত বড়, কৌশল তার চেয়ে বড়।
