" জান্নাতের হুরদের একটি ওড়না দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও বেশি মূল্যবান? | Hoors of Jannah - বিডি টুডে ভাইরাল

জান্নাতের হুরদের একটি ওড়না দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও বেশি মূল্যবান? | Hoors of Jannah

জান্নাতের-হুর

জান্নাতে "Jannah" এমন এক সৌন্দর্য আছে, যা একবার দেখলে চোখ সরানো যাবে না।

সেখানে এমন এক নেয়ামত আছে, যার কথা শুনলে হৃদয় কেঁপে ওঠে! যা দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছুর চেয়েও বেশি মূল্যবান?


রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, “জান্নাতের একজন হুর "Hoor" যদি দুনিয়ার জমিনে নিঃশ্বাস ফেলতেন, তাহলে আকাশ ও জমিন সুবাসে ভরে যেত। জান্নাতের একজন হুর যদি দুনিয়ায় একফোঁটা লালা ফেলতেন, তাহলে দুনিয়ার সমস্ত পানি মিষ্টি হয়ে যেত। “সুবহানআল্লাহ 


তাহলে বলুন- জান্নাত কেমন হতে পারে? জান্নাতের প্রকৃত  সৌন্দর্য দুনিয়ার মানুষের কল্পনারও ঊর্ধ্বে।


আল্লাহ "Allah" তা‘আলা জান্নাতকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য পরিপূর্ণ শান্তি, সুখ ও নেয়ামতের আবাস হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। জান্নাতের সেই অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে একটি বিশেষ নেয়ামত হলো- জান্নাতের রমণীগণ, যাদেরকে কুরআন ও হাদিসে “হুর” বলা হয়েছে। তাঁরা জান্নাতি পুরুষদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ উপহার।


আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন- “আর সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র সঙ্গিনীগণ (হুর), এবং তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।” -(সূরা আল-বাকারা: ২৫)

 

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতের হুরগণ হবেন পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত, চিরনবীন ও পবিত্র। তাঁদের যৌবন কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হবে না এবং তাঁরা হবেন সমবয়সী প্রেমময় সঙ্গিনী। জান্নাতের হুরদের সৌন্দর্য হবে অতুলনীয় ও দুনিয়ার কল্পনার ঊর্ধ্বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, জান্নাতি ব্যক্তি যখন বারবার হুরদের দিকে তাকাবেন, প্রতিবারই তাদের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে


হাদিসের বর্ণনায় এসেছে,- হুরদের চেহারা হবে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়, যেন আলো ছড়িয়ে পড়ে। তাদের হাসিতে জান্নাত আলোকিত হয়ে উঠবে। জান্নাতবাসী তাদের মুখমণ্ডলে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবে, যেমন স্বচ্ছ আয়নায় দেখা যায়। তারা পরিধান করবে মণি-মুক্তার পোশাক এবং মূল্যবান অলংকার, যা দুনিয়ার সমস্ত সম্পদের চেয়েও উত্তম

Hoor-Of-Jannah

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, জান্নাতের কোনো এক হুর যদি দুনিয়ার দিকে একবার তাকাতেন, তবে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সুবাসে ভরে যেত। তার সৌন্দর্যে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত আলোকিত হয়ে উঠত, আর মানুষ আল্লাহর মহিমা ও প্রশংসায় মশগুল হয়ে পড়ত।


হাদিসে আরও এসেছে, জান্নাতের হুরগণ হবেন চিরকুমারী, নম্র-স্বভাব ও সুশীলা। তাদের কথাবার্তা হবে মধুর ও হৃদয়গ্রাহী। জান্নাতের প্রাসাদ ও কক্ষসমূহে তারা চলাফেরা করলে সেসব স্থান তাদের নূরে আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে


জান্নাতে শুধু হুররাই নন, জান্নাতি নারী-পুরুষ সকলেই হবেন একই বয়সের, পরিপূর্ণ যুবক-যুবতী। তাদের দেহ হবে কোমল ও সতেজ, ক্লান্তি ও দুঃখ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। চোখ হবে গভীর ও সুন্দর, চরিত্র হবে পবিত্র ও হৃদয় হবে প্রশান্তিতে ভরপুর।


সবশেষে বলা যায়, জান্নাতের হুর কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতীক নন; বরং তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতিদের জন্য এক মহান সম্মান, চিরস্থায়ী আনন্দ ও পরিপূর্ণ শান্তির নিদর্শন।


জান্নাত হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার। জান্নাতের হুর, তাদের পবিত্রতা, সৌন্দর্য, চিরযৌবন এবং জান্নাতের শান্তিময় পরিবেশ- সবকিছুই দুনিয়ার মানুষের কল্পনার ঊর্ধ্বে। জান্নাতের হুরদের একটি ওড়না দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও মূল্যবান!


যখন সব কিছু শেষ হয়ে যাবে…

থাকবে শুধু আমল আর আল্লাহর রহমত।

সেই রহমতের পুরস্কার হলো জান্নাত- আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন- আমিন।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url