" ৭০০ বছরের অভিশাপ! Green Lady Mystery ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাসাদ - বিডি টুডে ভাইরাল

৭০০ বছরের অভিশাপ! Green Lady Mystery ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাসাদ

green-lady-haunted

ফ্রান্সের লোয়ার ভ্যালিতে অবস্থিত Château de Brissac শুধুই একটি রাজকীয় প্রাসাদ নয়, এটি ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর ভূতুড়ে স্থান। শত শত বছর ধরে এই প্রাসাদের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক রহস্যময় আত্মা, যাকে বলা হয় Green Lady (La Dame Verte)।


ফ্রান্সের লোয়ার ভ্যালির সৌন্দর্যের মাঝে, প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো একটি দানবীয় প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে , সেই স্থান যেখানে রাজকীয় ইতিহাস ও অতিপ্রাকৃত রহস্য মুখোমুখি হয়েছে। এটি Château de Brissac (শ্যাটো ডি ব্রিসাক) -ফ্রান্সের অন্যতম সবচেয়ে উঁচু এবং চিত্তাকর্ষক শ্যাটেউ, যা আজও তার প্রাচীরগুলোর ভেতর অজানা কাহিনি লুকিয়ে আছে।


এই শ্যাটেউ শুধু ইতিহাস বা স্থাপত্যশিল্পের জন্য বিখ্যাত নয় - এটি ভুতুড়ে স্থান, হৃদয়বিদারক প্রতিশোধ, এবং “Green Lady” বা La Dame Verte নামে পরিচিত এক ভয়ানক আত্মার জন্যও বিখ্যাত। আজ আমরা সেই রহস্যময় কাহিনীকে আলোকপাত করব। 


Château de Brissac-এর জন্ম মধ্যযুগে। ১১শ শতাব্দীতে এটি একটি দুর্গ হিসেবে নির্মিত হয়। পরে ১৫শ শতকে তা পুনর্নির্মিত হয়ে এক আভিজাত্যশালী প্রাসাদে পরিণত হয় এবং আজও এটির কোলে রয়েছে ইতিহাসের বহু স্তর-রেনেসাঁ, বারোক এবং মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের মিশ্রণ। 

 

এটি লোয়ার ভ্যালিতে অবস্থিত Brissac-Quincé-র গ্রামে, এবং এটি ফ্রান্সের সবচেয়ে উঁচু প্রাসাদগুলোর একটি। সাতটি মেঝে বিশিষ্ট বিশাল একটি কেল্লা। মানুষ এটিকে “লোয়ারের দৈত্য” বলে ডাকে তার গভীর ইতিহাস, বহু যুদ্ধ ও রাজনীতির সাক্ষী হিসেবে।  কিন্তু এখানে ইতিহাসের চেয়ে বেশি লোককথা প্রবল , যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভূতুড়ে-প্রাসাদ

এই স্থানের সবচেয়ে বিখ্যাত ভূত -Green Lady, বাংলায় সবুজ পোশাকধারী লেডি। তিনি ছিলেন Charlotte de Brézé (শার্লট ডি ব্রেজ)। এক সময়ের এক রাজকীয় নারী, যিনি এই শ্যাটেউর একটি অংশে থাকতেন। তাঁর জীবন ছিল রাজকীয় কিন্তু সুখহীন... এবং তাঁর মৃত্যু ছিল নির্মম। 


শার্লটের স্বামী ছিলেন Jacques de Brézé (জ্যাক ডি ব্রেজ,) এক ধনী, শক্তিশালী নাবালক। তিনি একদিন জানতে পারেন যে শার্লট তার শিকারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চালাচ্ছেন। এক অনৈতিক সম্পর্ক, যা সেই সময়ের সমাজে ছিল অননুমোদিত এবং অগ্রহণযোগ্য। 


চাঁদের আলোয় আচ্ছন্ন এক রাতে Jacques (জ্যাকস) দুর্গের গোপন ঘরে প্রবেশ করেন, সেই রাতেপ্রেমিক যুগল ধরা পড়ে। আর সেই মুহূর্তে ঘটে এক নির্মম ঘটনা। 


Jacques রাগে উন্মত্ত হয়ে প্রথমে শার্লটের প্রেমিককে এবং পরে নিজ স্ত্রীকে হত্যা করেন। কেউ কেউ বলে তিনি তাঁদের তলোয়ার দিয়েই কোপান, কেউ আবার বলে খুনের পরে তাঁদের দেহ কক্ষের কোথাও লুকিয়ে রাখেন। তবে যে আসলে ঘটে গেছে, তা আজও অজানা। 


অনেক পর্যটক এবং যারা Château de Brissac-এ কাজ করেন বা থাকেন, তারা Green Lady সম্পর্কে বিবিধ অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন। কিছু মানুষ দাবি করেন: তারা রাতের নির্জন সময়ে একটা সবুজ ছায়ামূর্তিকে টাওয়ার রুমের কাছে পর্যবেক্ষণ করেছেন,শুনেছেন কাঁদার মতো শোকগাথা, যাকে moans বলা হয়।


অনুভব করেছেন হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস, ঘরের কোনায় কোনায় এক অদৃশ্য দেহের উপস্থিতি... এমনকি প্রায়ই বলা হয়, সেই সবুজ পোশাকধারী লেডির মুখটি খুবই ভয়ানক। যেখানে চোখ ও নাক হওয়ার কথা, সেখানে ঘূর্ণায়মান অন্ধকার গহ্বর; যেন শয়তানের চোখের ছাপ।


এমন একটি উপস্থিতি যে শুধু দেখা যায় না। আপনি যদি যথেষ্ট নির্জন রাতে থাকেন, আপনি তাকে অনুভবও করতে পারেন। কেউ বলেছে“এখানে রাতে যেন মনে হয় কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে... কিন্তু তুমি জানো না সেটা জীবিত কি মৃত।”


কিছু দর্শক যারা Château de Brissac-এ রাত কাটিয়েছেন, তাঁরা জানান, তারা কেবিনে ঘুমোতে গিয়ে হঠাৎ অনুভব করেছেন কাঁপুনি, এমনকি রাতে শোনা গেছে অদ্ভুত ধাপচাপ, কেউ আবার ঘুম থেকে উঠে দেখেছেন সবুজ পরির ছায়ামূর্তি ঘরের শেষে দাঁড়িয়ে আছে...


ইতিহাস নিজেই একটি রহস্য। যেমন জানা গেছে Charlotte ও Jacques এর ব্যাপারে কিছু তথ্য ইতিহাসচর্চায় নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়, আবার কিছু গল্প লোককথা দ্বারা বিকৃত হয়েছে ।


কিন্তু শ্যাটেউর প্রাচীর যখন রাতের অন্ধকারে কম্পমান হয়, তখন মনে হয়, ইতিহাস আর ভূতছায়া একে অপরকে আলিঙ্গন করেই দাঁড়িয়ে আছে।


আপনাকে বলছি-আপনি কি এই রহস্যময় ঘরগুলোতে একাকী বেড়াতে সাহস পাবেন? আপনি যদি ভূত, রহস্য, ঐতিহাসিক অভিশাপ ও ভয়ংকর সত্য ঘটনা ভালোবাসেন- এই ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত অবশ্যই দেখুন। আমাদের ভিডিওতে জানুন- সেই ইতিহাস-

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url



অনুসরণকারী