" সেনা হত্যার প্রতিশোধ নিতে সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা - বিডি টুডে ভাইরাল

সেনা হত্যার প্রতিশোধ নিতে সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা

 সেনা_হত্যার_প্রতিশোধ_নিতে_সিরিয়ায়_মার্কিন_বিমান_হামলা

বিশ্ব রাজনীতির অস্থির মানচিত্রে আবারও জ্বলছে আগুন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া "Syria"। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের "US airstrike" কেন্দ্রবিন্দু।


সম্প্রতি সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়, আহত হয় আরও অনেকে। এই ঘটনাকে সরাসরি “লাল রেখা অতিক্রম” "Crossing the red line" হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র।


এরই প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র চালায় লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, এই হামলা চালানো হয়েছে ইরান- সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে।


বিশেষ করে সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র মজুদ কেন্দ্র এবং ড্রোন অপারেশন বেস ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র জানায়,“আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আমাদের সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।”


এই হামলায় অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নির্ভুল গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করা হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের অভিযানে ধ্বংস করে দেওয়া হয় একাধিক ঘাঁটি। তবে এখানেই শেষ নয়।


সিরিয়া সরকার এই হামলাকে  “সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দিয়েছে। রাশিয়া ও ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য-এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে। 


বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধুই প্রতিশোধ নয় বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তা। ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিতে চায়,মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার মূল্য দিতে হবে কঠিনভাবে। একই সঙ্গে এটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ ছিল সেনা হত্যার ঘটনায় শক্ত জবাব দেওয়ার।


তবে প্রশ্ন থেকেই যায়-এই হামলা কি সত্যিই পরিস্থিতি শান্ত করবে? নাকি এটি মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় সংঘাতের সূচনা? 


ইতিহাস বলে-সিরিয়ায় প্রতিটি হামলা শুধু একটি দেশের বিষয় নয়। এখানে জড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান, ইসরায়েল এবং অসংখ্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর জটিল স্বার্থ। 


আজ এক হামলার প্রতিশোধ,আগামীকাল হয়তো আরেক রক্তক্ষয়ী সংঘাত। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তাই এখনও ভাসছে যুদ্ধের ছায়া- আর বিশ্ব তাকিয়ে আছে পরবর্তী বিস্ফোরণের আশঙ্কায়। 



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url