" Earthquake as punishment for sin | আল কুরআনে বর্ণিত যে পাপের শাস্তি ভূমিকম্প - বিডি টুডে ভাইরাল

Earthquake as punishment for sin | আল কুরআনে বর্ণিত যে পাপের শাস্তি ভূমিকম্প

Earthquake is the punishment for sins mentioned in the Quran.


অশ্লীলতার_শাস্তি_ভূমিকম্প


ইসলামের দৃষ্টিতে ভূমিকম্প “Earthquake” শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ “Natural disaster” নয়- এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে শক্তিশালী সতর্কতা ও শিক্ষা। কুরআনে “Al-Quran” এমন কিছু জাতির কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, অন্যায়-অপরাধে ডুবে গিয়েছিল। আর তাদের ধ্বংসের অন্যতম কারণ ছিল ভয়াবহ ভূমিকম্প।


নবী  শু’আয়ব (আ.) “Prophet Shu'ayb (a.s.)” এর আমল। মাদইয়ান সম্প্রদায় প্রতারণা, দুর্নীতি ও সীমালঙ্ঘনে জড়িত ছিল। শেষ পর্যন্ত মহা ভূমিকম্প তাদের পুরো শহরকে ধ্বংস করে দেয়। নবী সালেহ (আ.) এর আমল। সামূদ জাতি আল্লাহর বিশেষ নিদর্শন ‘উষ্ট্রী’ কে হত্যা করে। ফলে ভয়ংকর বজ্রধ্বনি ও ভূমিকম্পে তাদের সমূলে ধ্বংস করা হয়।


নবী লূত (আ.) “Prophet Lut (a.s.)” এর আমল। অশ্লীলতা ও নৈতিক ধ্বংসের কারণে তাদের শহরকে উল্টে ফেলা হয় এবং পাথরের বৃষ্টিতে শাস্তি দেওয়া হয়।


নবী মূসা (আ.) “Prophet Moses (a.s.)”  ও বাছুর পূজারীরা শিরক ও মূর্তিপূজার কারণে তাদের উপর মাটির কম্পন নেমে আসে শাস্তি হিসেবে। আজকের পৃথিবীও সেই একই পথে হাঁটছে। অসৎ কাজ, দুর্নীতি, অশ্লীলতা, আল্লাহর বিধান অস্বীকার- সবই সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিদের চরিত্রেরই পুনরাবৃত্তি।


তাই ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানুষ যত শক্তিশালী ভাবুক না কেন, আল্লাহর সামনে আমরা অসহায়। বুকে কাঁপন ধরানো শব্দ… মাটির গর্জন… চোখের সামনে সবকিছু ভেঙে চুরমার…হ্যাঁ, এটাই ভয়াবহ ভূমিকম্প।


ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক সময় এসেছে, যখন মানবজাতির অবাধ্যতার বিরুদ্ধে আল্লাহ প্রদর্শন করেছেন তাঁর শক্তি। আর সে সময় আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসূলগণ ছিলেন মানুষের সামনে সতর্কতা ও সত্যের বার্তা নিয়ে।


আজকের- এই প্রতিবেদনে আমরা জানব- কোন কোন নবীর আমলে বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল? এবং সেসব ঘটনার পেছনের শিক্ষা। চলুন শুরু করি কুরআনের বর্ণনা থেকে-


Earthquake as punishment for sin


১) নবী শুয়াইব (আ.) এর আমলের ভূমিকম্প - “আসহাবে মাদইয়ান” "The Companions of Madyan"


মাদইয়ান নগর ছিল বাণিজ্যে সমৃদ্ধ। কিন্তু তাদের ছিল এক ভয়ঙ্কর বৈশিষ্ট্য-লোক ঠকানো, ন্যায্য মাপ-ওজন কম দেওয়া, দুর্নীতি এবং অবিশ্বাস। নবী শুয়াইব (আ.) বহুবার সতর্ক করেছিলেন- “হে আমার জাতি! আল্লাহকে ভয় করো, অন্যায় করো না, প্রতারণা বন্ধ করো।”


কিন্তু তারা বিদ্রুপ করে বলেছিল- “তোমার নামায কি তোমাকে শেখায় যে, আমরা যা চাই তা করতে পারব না?” হাদীস ও তাফসির থেকে জানা যায়- যখন তারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করল, তারপর এক ভয়ংকর ভূমিকম্প তাদের শহরকে গিলে ফেলেছিল।


আকাশের প্রচণ্ড চিৎকার আর নিচ থেকে মাটির দোলনে ধ্বংস হয়ে যায় পুরো মাদইয়ান। কুরআনে বলা হয়েছে-“তাদেরকে গ্রাস করেছিল ভূমিকম্প; এবং সকালে তারা নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।”-সূরা আল-আরাফ: ৯১

শিক্ষা: অন্যায়, দুর্নীতি ও আল্লাহর বিধান অস্বীকার করলে ধ্বংস অনিবার্য।


২) নবী সালেহ (আ.) এর আমলের ভূমিকম্প- “কওমে সামূদ” "people of Thamud"


সামূদ সম্প্রদায় বসবাস করত পার্বত্য অঞ্চলে। তারা বিশাল পাহাড় কেটে ঘর বানাতো। তারা বলতো- “এ শক্তিশালী পাহাড়ি ঘরের উপর তোমার আল্লাহর গজব কীভাবে আসবে? ”


নবী সালেহ (আ.) তাদের এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা নিদর্শন স্বরূপ সামূদের উষ্ট্রী তাদের সামনে পাঠানো হয়। কিন্তু তারা সেই উষ্ট্রীকে হত্যা করল।


আর বলল- “এবার গজব আনো! দেখি তো কত শক্তি তোমার আল্লাহর!” তারপর কী হলো?এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প এবং বজ্রধ্বনির মতো মহা শব্দ, তাদের জীবন শেষ করে দেয় মুহূর্তেই। কুরআন বলে-“যারা সীমালংঘন করেছিল, তাদেরকে আঘাত করল এক প্রচণ্ড ধ্বনি, ফলে তারা নিজ গৃহে উপুড় হয়ে রইল।”- সূরা হুদ: ৬৭

শিক্ষা: আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে উপহাস করলে শাস্তি কঠিন।


৩) নবী লূত (আ.) এর আমলের ভূমিকম্প- “কওমে লূত” "people of Lut"


কওমে লূত ছিল নৈতিকতা ও মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এক জাতি।পুরুষে-পুরুষে যৌনাচার তাদের সমাজে সাধারণ ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল। নবী লূত (আ.) নিষেধ করলে তারা বলেছিল-“লূতকে এবং তার অনুসারীদের শহর থেকে তাড়িয়ে দাও!”


অবশেষে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা আগমন করেন এবং শাস্তি নেমে আসে। ভূমিকম্পে তাদের নগরী তলিয়ে যায়।এরপর শহর উল্টে ফেলা হয়। তারপর পাথরের বৃষ্টি। কুরআনে বলা হয়েছে- “আমি ওই জনপদকে উল্টে দিয়েছি এবং উপর থেকে পরপর নিক্ষিপ্ত করেছি পাথর।”- সূরা হিজর: ৭৪-৭৫

শিক্ষা: অশ্লীলতা, ব্যভিচার, এবং আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে শাস্তি অবধারিত।


৪) নবী মূসা (আ.) এর আমলের ভূমিকম্প - “সামরীর অনুসারীদের ঘটনা” "Follower of Samaritans"


নবী মূসা (আ.) যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে কথা বলতে গেলেন, কিছু লোক সামরীর প্ররোচনায় সোনার বাছুর বানিয়ে ইবাদত শুরু করে। ফেরার পর নবী মূসা (আ.) তাদের ওপর অতি রাগান্বিত হন।


এবং আল্লাহ বললেন-এ অবাধ্য ও মূর্তিপূজক সম্প্রদায়কে শাস্তি দেওয়া হবে। কুরআনে বলা হয়েছে-“তাদেরকে ভূমিকম্পে পাকড়াও করা হলো।”- সূরা আল-আরাফ: ১৫৫

শিক্ষা: শিরক করলে আল্লাহর গজব নিশ্চিত।


ইসলামে ভূমিকম্পের দুটি উদ্দেশ্য বর্ণিত হয় –

১) গুনাহগার জাতির ওপর আল্লাহর গজব

২) মুমিনদের জন্য পরীক্ষা ও সতর্কবার্তা।


রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-“যখন কোনো জাতির মাঝে অশ্লীলতা বেড়ে যায় এবং তারা তা প্রকাশ্যে করতে থাকে, তখন তাদের মাঝে ভূমিকম্প ও শাস্তি নেমে আসে।”- হাদিস: তিরমিজি


তাই ভূমিকম্প আমাদের জন্যও সতর্কবার্তা অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ফিরে যাও, গুনাহ পরিত্যাগ করো। আজকের মানুষ-

► দুর্নীতি করে

► প্রতারণা করে

► অশ্লীলতাকে স্বাভাবিক করে

► আল্লাহর বিধানকে উপহাস করে


এগুলো কি পূর্বের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিরই প্রতিচ্ছবি নয়? 

ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই দুনিয়া স্থায়ী নয়।মহান আল্লাহর সামনে একদিন সবাইকে দাঁড়াতে হবে।


আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহজ পথে রাখুন…গুনাহ থেকে বাঁচার তৌফিক দিন…এবং পৃথিবীর সব দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন। আমিন-

বিস্তারিত ভিডিওতে-





Next Post Previous Post
1 Comments
  • নামহীন
    নামহীন ১০:০৪

    Dhonnobad eto sundr vabe tule dhorar jony.

Add Comment
comment url