থিওডর হার্জল - লক্ষ লক্ষ মুসলিম নিধন ইহুদিবাদের অন্ধকার সত্য
Theodor Herzl and Middle East history
থিওডর হার্জেল - আধুনিক জায়োনিজমের জনক, যিনি একসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন ইহুদিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের। কিন্তু সেই স্বপ্নই হয়ে উঠেছিল লাখো ফিলিস্তিনির দুর্ভোগ, বাস্তুচ্যুতি এবং রক্তাক্ত ইতিহাসের সূচনা।
থিওডর হার্জেলের আদর্শ, “জায়োনিজম” কীভাবে জন্ম দিয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মতো দীর্ঘ যুদ্ধের? কীভাবে একটি আদর্শ মানবতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে লাখো নিরপরাধ মানুষের জীবনে এনেছে দুর্ভোগ ও মৃত্যু?
এই ডকুমেন্টারি আপনাকে নিয়ে যাবে ইতিহাসের গভীরে- যেখানে দেখা যাবে স্বপ্ন, রাজনীতি, ধর্ম ও ক্ষমতার এক ভয়ংকর বাস্তব চিত্র। জানুন কিভাবে এক সাংবাদিকের চিন্তা পরিণত হলো লাখো মানুষের দুর্দশা ও জাতিগত নিধনের কারণ হিসেবে।
এ যেন ইতিহাসের এক বিতর্কিত চরিত্র। নাম থিওডর হার্জেল। একজন সাংবাদিক, এক জন দার্শনিক -কিন্তু তার চিন্তাধারার ফলেই শুরু হয় এক দীর্ঘ রক্তাক্ত অধ্যায়... যার নাম ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত “Israeli-Palestinian conflict”।
১৮৬০ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে জন্ম নেওয়া হার্জেল ছিলেন এক বুদ্ধিজীবী ইহুদি, যিনি ইউরোপে ইহুদি-বিরোধীতা দেখে ব্যথিত হয়েছিলেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন, ইহুদিদের নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্য তাদের নিজস্ব একটি “জাতি-রাষ্ট্র” থাকা প্রয়োজন। এই চিন্তা থেকেই তিনি ১৮৯৬ সালে লিখলেন বিখ্যাত বই “The Jewish State”।
এই বইতে হার্জেল প্রস্তাব করেন - ইহুদিদের জন্য এক স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন উগান্ডা, আর্জেন্টিনা কিংবা আফ্রিকার কোনো অংশে হতে পারে সেই ভূমি।
কিন্তু শীঘ্রই সেই দৃষ্টি গিয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র ভূমি প্যালেস্টাইন- এর ওপর। তখন প্যালেস্টাইন ছিল ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশ, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি একসঙ্গে বাস করছিল।
কিন্তু হার্জেলের ধারণা - “এই ভূমিই ইহুদিদের প্রাচীন অধিকারভূমি”- এক নতুন রাজনৈতিক মতবাদের জন্ম দেয়: জায়োনিজম।
হার্জেল ১৮৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে আয়োজন করেন প্রথম “Zionist Congress”। এখানেই সিদ্ধান্ত হয়- ইহুদিদের জন্য প্যালেস্টাইনে রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন শুরু হবে। তিনি ঘোষণা দেন: “আজ আমি ইহুদি রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেছি; হয়তো ৫০ বছর পরে তা বাস্তব হবে।”
অদ্ভুতভাবে, প্রায় ঠিক ৫০ বছর পরেই, ১৯৪৮ সালে গঠিত হয় ইসরায়েল। কিন্তু এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে শুরু হয় লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনির উচ্ছেদ, নির্যাতন ও গণহত্যা। যাদের ঘর-বাড়ি ছিল, তারা শরণার্থী হলো; যাদের ভূমি ছিল, তা দখল হলো।
এইভাবেই হার্জেলের স্বপ্ন পরিণত হলো এক মানবিক বিপর্যয়ে। হার্জেল হয়তো ভাবেননি তার চিন্তা একদিন এতটা রক্তক্ষয়ী হবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী - তার আইডিয়াই পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক নীতির নৈতিক ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
আজও ফিলিস্তিনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তার মূল বীজ বপন করেছিলেন এই একজন মানুষ - থিওডর হার্জেল। তিনি মারা গিয়েছিলেন ১৯০৪ সালে, কিন্তু রেখে গেছেন এমন এক আদর্শ, যার ছায়ায় এখনো জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূমি।
একজন মানুষ, এক ধারণা -আর তার ফল, লাখো মানুষের অশ্রু ও রক্তের ইতিহাস। “থিওডর হার্জেল- ইতিহাসের সেই নাম, যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এক রাষ্ট্রের, কিন্তু রেখে গেছেন অনন্ত যুদ্ধের উত্তরাধিকার।”
এই ভিডিওতে জানুন- কিভাবে এক ইউরোপীয় সাংবাদিকের চিন্তা পরিণত হলো এমন এক রাজনৈতিক মতবাদে, যা বদলে দিয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র । এই ডকুমেন্টারি ভিডিওটি আপনাকে নিয়ে যাবে ইতিহাসের গভীরে -
