" বাংলাদেশে মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবার আতঙ্ক | Brain Eating Amoeba - বিডি টুডে ভাইরাল

বাংলাদেশে মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবার আতঙ্ক | Brain Eating Amoeba

Brain Eating Amoeba

আজ আমরা আলোচনা করবো এক অদৃশ্য কিন্তু ভয়ঙ্কর প্রাণীর বিষয়ে, মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা বা Naegleria fowleri নাম শুনেই ভয় পাচ্ছেন নিশ্চয়ই! কিন্তু জানেন কি, এই অদৃশ্য জীবাণু একবার মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যুর হার প্রায় ৯৮%?


মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা আসলে এক ধরনের ফ্রি-লিভিং প্রোটোজোয়া, যা সাধারণত উষ্ণ মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। নদী, পুকুর, হ্রদ কিংবা অপরিষ্কার সুইমিং পুল, এগুলোই এদের মূল আশ্রয়স্থল। শরীরে প্রবেশের প্রধান পথ হলো নাকের মাধ্যমে। যখন কেউ পানিতে ডুব দেয় বা খেলাধুলা করে, তখন পানি নাক দিয়ে প্রবেশ করলে জীবাণু ঘ্রাণ স্নায়ু বেয়ে মস্তিষ্কে চলে যায়। সেখানেই এটি মস্তিষ্কের টিস্যু ধ্বংস করতে শুরু করে। এজন্যই একে বলা হয় Brain-eating Amoeba


এর আক্রমণের লক্ষণগুলো খুব দ্রুত প্রকাশ পায়। শুরুতে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি ভাব, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং বিভ্রান্তি দেখা দেয়। পরবর্তীতে খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন এবং অচেতন অবস্থায় চলে যায় রোগী। পুরো প্রক্রিয়া কয়েক দিনের মধ্যে ঘটে এবং চিকিৎসা প্রায় কার্যকর হয় না।


এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে এর প্রভাব কতটুকু?

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবার অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে অপরিষ্কার পানির পাইপলাইন, পুরনো ওয়াটার ট্যাংক সুইমিং পুল থেকে জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গরম আর্দ্র আবহাওয়া, অপরিষ্কার পানির ব্যবহার এবং শহরের জনসংখ্যার ঘনত্ব সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশে এর ঝুঁকি বাড়ছে। কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনাও ইতোমধ্যে রিপোর্ট হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ পানির ব্যবহার না বাড়ালে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ প্রভাব দেখা দিতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


👉প্রথমত, নদী-পুকুর বা অপরিষ্কার পানিতে ডুব দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


👉দ্বিতীয়ত, নাকে পানি টেনে ওজু করা বা গোসলের সময় সতর্ক থাকতে হবে।


👉তৃতীয়ত, পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং সুইমিং পুলে ক্লোরিন ব্যবহার করতে হবে।


👉চতুর্থত, মাথাব্যথা বা জ্বরের সাথে যদি সম্প্রতি পানিতে ডুব দেওয়া থাকে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারকে জানাতে হবে।


বন্ধুরা, মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা অদৃশ্য হলেও মারাত্মক। সচেতনতা আর সতর্কতাই পারে আমাদের এই নীরব ঘাতক থেকে বাঁচাতে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url